সিয়াম ভঙ্গের জন্য প্রথমত যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো—স্ত্রী সহবাস অথবা স্বেচ্ছায় যেকোনো ধরনের যৌনকাজে সম্পৃক্ত হওয়া। এটি সিয়াম নষ্ট করে দেয়। তাই কেউ যদি স্বেচ্ছায় কোনো যৌন চাহিদা পূরণ করার জন্য চেষ্টা করেন, সেটা স্ত্রী সহবাস অথবা যেকোনোভাবে হোক না কেন, তাহলে তার সিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে।
দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে পানাহার করা। স্বেচ্ছায় যদি কোনো ব্যক্তি পানাহার করেন, তাহলে তার সিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে।
তৃতীয় বিষয়টি একটু দীর্ঘ আলোচ্য বিষয়। সেটা হচ্ছে পানাহারের অর্থ যেখানে পাওয়া যায়, অর্থাৎ যে কাজের মধ্যে পানাহারের অর্থ পাওয়া যায়, সে কাজগুলোও সিয়ামকে নষ্ট করে। যেমন আপনি যদি ধূমপান করেন, তাহলে আপনার সিয়াম নষ্ট হবে। অথবা আপনি কিছু গিলে ফেললেন, যেমন—পাথর বা এই জাতীয় কিছু আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেললে সিয়াম নষ্ট হবে। তবে যদি থুতু গিলে থাকেন, তাহলে সিয়াম নষ্ট হবে না, কারণ থুতু পানাহারের মতো বিষয় নয়। এটা শরীরের অভ্যন্তরীণ একটা বিষয়।
আর পানাহারের অর্থ নেই যে বিষয়গুলোতে সেগুলো সিয়াম নষ্ট করে না, যেমন—চোখে ড্রপ দিলে, কানে ড্রপ দিলে, ইনসুলিন নিলে, ইনজেকশন নিলে সিয়াম নষ্ট হবে না। কিন্তু পানাহারের অর্থ পাওয়া যায় এমন ইনজেকশন বা স্যালাইন নিলে, যেগুলো খাদ্যের কাজ করে, শক্তিবর্ধক অথবা খাদ্যের ব্যবস্থা আছে, সেই স্যালাইন যদি কেউ নিয়ে থাকেন, তাহলে তার সিয়াম নষ্ট হয়ে যাবে।
তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম, সিয়াম ভঙ্গের মৌলিক বিষয় হচ্ছে তিনটি। প্রথমত, স্ত্রী সহবাসসহ যেকোনো ধরনের যৌনাচার। দ্বিতীয়ত, পানাহার বা খাদ্য গ্রহণ করা। তৃতীয়ত, পানাহারের অর্থ যেগুলোর মধ্যে রয়েছে, সেগুলো সিয়াম নষ্ট করে থাকে।
তাই আসুন রোজার প্রয়োজনীয় কিছু বিধান জেনে নিই:
রোজা ভাঙে যেসব কারণে:
১. ইচ্ছাকৃত কিছু খেলে বা পান করলে
২. স্ত্রী সহবাস করলে
৩. কোনো বৈধ কাজ করার পর রোজা ভেঙে গেছে মনে করে ইচ্ছাকৃত খেলে
৪. কানে বা নাকে ওষুধ ঢোকালে
৫. ইচ্ছা করে মুখ ভরে বমি করলে অথবা অল্প বমি আসার পর তা গিলে ফেললে
৬. কুলি করার সময় অনিচ্ছাকৃত গলার ভেতরে পানি চলে গেলে
৭. কামভাবে কাউকে স্পর্শ করার পর বীর্যপাত হলে
৮. খাদ্য না এমন বস্তু খেলে যেমন: কাঠ, কয়লা, লোহা ইত্যাদি
৯. ধূমপান করলে
১০. আগরবাতি ইত্যাদির ধোঁয়া ইচ্ছা করে নাকে ঢোকালে
১১. সময় আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর সেহেরি খেলে
১২. ইফতারের সময় হয়ে গেছে মনে করে সময়ের আগেই ইফতার করে ফেললে
১৩. দাঁত দিয়ে বেশি পরিমাণ রক্ত বেরিয়ে তা ভেতরে চলে গেলে
১৪. জোর করে কেউ রোজাদারের গলার ভেতরে কিছু ঢুকিয়ে দিলে
১৫. হস্তমৈথুন দ্বারা বীর্যপাত ঘটালে
১৬. মুখে পান রেখে ঘুমালে এবং সে অবস্থায় সেহেরির সময় চলে গেলে
১৭. রোজার নিয়ত না করলে
১৮. কানের ভেতরে তেল ঢোকালে
রোজা মাকরুহ হয় যেসব কারণে
১. বিনা প্রয়োজনে কোনো কিছু চিবালে
২. মাজন, কয়লা, গুল বা পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজলে
৩. রাতে ফরজ হওয়া গোসলসহ সারাদিন অতিবাহিত করলে।
৪. রোজা অবস্থায় রক্তদান করলে।
৬. পরনিন্দা, কুৎসা, অনর্থক কথা ও মিথ্যা বললে।
৭. ঝগড়া, ফাসাদ ও গালমন্দ করলে।
৮. ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে অস্থিরতা প্রকাশ করলে।
৯. মুখে থুথু জমা করে গিলে ফেললে।
১০. স্ত্রীকে কামভাবের সঙ্গে স্পর্শ করলে।
১১. মুখে কিছু চিবিয়ে শিশুকে খাওয়ালে।
১২. বুটের কণার চেয়ে ছোট কিছু দাঁতের ফাঁক থেকে বের করে গিলে ফেললে।
যেসব কারণে রোজা ভাঙে না
১. ভুলে কিছু খেলে বা পান করলে
২. অনিচ্ছাকৃত বমি করলে
৩. রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে
৪. অসুস্থতাজনিত কারণে বীর্যপাত হলে
৫. স্বামী-স্ত্রী চুম্বন ও আলিঙ্গন করলে

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন